1. [email protected] : Md. Munna Miah : Md. Munna Miah
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Emad uddin Akash : Emad uddin Akash
  4. [email protected] : Peer Jubaer : Peer Jubaer
  5. [email protected] : Rayhan Ahmed : Rayhan Ahmed
  6. [email protected] : Sayad hussen sobuj : Sayad hussen sobuj
  7. [email protected] : Md. Usman Gani : Md. Usman Gani
  8. [email protected] : Zakaria Ahmed : Zakaria Ahmed
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন


সিলেটের কণ্ঠ ডেস্ক

৩০ মার্চ ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ণ

মানবতা কই পাবো?

  • প্রকাশিত : মার্চ, ৩০, ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ণ


    শাহ্ ইয়াওর মিয়া:: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।দয়া করে আপনার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রনালয়ের দিকে নজর দিন। সরকারি বেতনপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কোথায়? কেন হাসপাতালে নিরীহ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন না? দয়া করে খবর নিন। আমি গতকাল একটি স্ট্যাটাস লিখেছিলাম, সিলেটের সব স্পেশালিস্ট ডাক্তার প্রফেসরদের কি করোনা ভাইরাসে ধরেছে? বেশির ভাগই চিকিৎসকদের বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আর এতে বোঝা গেছে সাধারণ মানুষরা চিকিৎসকদের উপর কতটা ক্ষুব্ধ।

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর একটি সংবাদ আমার এক ঘনিষ্টজন শেয়ার করায় দৃষ্টিগোচর হয়, ১৬ ঘন্টা একজন মূমুর্ষ রোগীকে নিয়ে ৬ হাসপাতালে ঘুরেছেন তাঁর স্বজনরা, কিন্তু তাঁকে কোথাও ভর্তি নেওয়া হয়নি। তারপর মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন তিনি। আর তাতে সমালোচনার ঝড় ওঠে চিকিৎসকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সর্বস্তরে।

    বিশ্বব্যাপী চলমান দুঃসময়ে সারা পৃথিবীর মানুষ যখন অসহায়, সেই তুলনায় আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা অনেক অনেক ভালো আছে। ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকারকে, ধন্যবাদ মানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে, মহামারী বিপদ আসার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য। না হয় আল্লাহ না করুক যদি চীন, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মত অবস্থা হতো তাহলে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ শতকরা ৯৯% মারা যেতেন চিকিৎসার অভাবে।  কারণ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা ভয়ে হাসপাতালেই যাচ্ছেন না।

    আমি আমাদের সিলেটের অবস্থার কথা লিখেছিলাম আগের দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে, আর পরেরদিন দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদ দেখে মনে হয়েছে ঢাকা সহ সারা দেশে ঠিক একই অবস্থা। আমরা বরাবরই সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতি-অনিয়মের কথা শুনে আসছি।

    সিলেটের যত নামীদামী সার্জেন্ট, প্রফেসার চিকিৎসকরা আছেন, প্রায় সবাই সিলেটের এম এ জি ওসমানীতে চাকরি করেন। মাসে মাসে মোটা অংকের বেতন পকেটে ঢোকান।

    নামকা ওয়াস্তে দিনে একবার বা দুইদিনে একবার হাসপাতালে যান, আর না হয় পুরো সময় অনুপস্থিত।  কিন্তু হাজিরা খাতায় ঠিকই স্বাক্ষর দেখা যায়, আমার মনে হয় ভুতের হাতে স্বাক্ষর হয়। বরাবর তারা মেডিকেল স্টুডেন্ট দ্বারা কাজ চালিয়ে নেন।

    কারণ প্রত্যেকের প্রাইভেট চেম্বার আছে, আর সেখানে বসে তারা প্রচুর টাকা কামান। কিন্তু তাদের লোভ এতই প্রকট যে, শুধু খাই খাই ভাব। একেক জন ৪/৫টা করে প্রাইভেট ক্লিনিকের অংশীদারিত্বের মালিক। চেম্বারে রোগী দেখেই বলে দেন অমুক হাসপাতালে ভর্তি লাগবে। প্রেগন্যান্ট মহিলা পেলেই তো কোন কথাই নাই, সিজার করাতে হবে। কিন্তু তাদের সিন্ডিকেট এতোটা মজবুত যা সরকারও ট্র্যাকল দিতে পারেনা।

    আজ যখন দেশজুড়ে মানুষ বিপদগ্রস্থ তখন তারা মানুষের সেবক নামের প্রতারক হয়ে আসল প্রতারকের কাজ করে যাচ্ছেন। তারা আজ হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন।

    এই মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা না দিয়ে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পালিয়ে গেছেন ঢাকায়। নিজের করোনা ভাইরাস সিমটম আছে কি না পরীক্ষা করাতে। আর হাসপাতালে রেখে গেছেন কিছু সংখ্যক লার্নার ডাক্তার, তারা রোগী দেখলেই করোনা ভাইরাসের রোগী মনে করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের। আমার প্রশ্ন হল যদি করোনায় আক্রান্ত রোগীই বা হয়, সে কেন চিকিৎসা পাবেনা?

    গত দুই সপ্তাহ হল যুক্তরাজ্য প্রবাসী ম্যানচেষ্টার আওয়ামী লীগের সভাপতি ছুরাবুর রহমানের সহধর্মীনিকে করোনার রোগী মনে করে চিকিৎসা তো দেওয়া হয়নি উল্টো তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর লাশের গোসল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। পরিবার তাঁর লাশ দাফনও করতে পারেনি। উল্টো তাদেরকে হয়রানি করা হয়েছে।

    গত দুই সপ্তাহ পূর্বে আমার শশুর নিয়মিত হার্টের এবং কিডনির সমস্যা নিয়ে সিলেট যান চিকিৎসকের কাছে। তাঁর নিয়মিত ডাক্তার শিশির চক্রবর্তি তাঁকে ভর্তি দেন ইউনাইটেড হাসপাতালে। চিকিৎসা চলে কিডনির ইনফেকশনের, ৪ দিন পাড় হলেও রোগীর কোন উন্নতি হয়নি বরং অবস্থা অবনতি হচ্ছে শুনে আমি অনেকবার কল দিয়ে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কে একজন আমার কল রিসিভ করে বললেন, স্যার এখন ঢাকায় চলে গেছেন, আর কোন স্পেশালিস্ট নেই। ৪ জন স্যার সবাই ঢাকায় আছেন, করোনা আছে কি না পরীক্ষা করানোর জন্য। এদিকে আমার শশুরের অবস্থা খুবই খারাপ দিকে যাচ্ছে দেখে তাড়াতাড়ি করে সেখান থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে আসা হয়।

    এখন হল আরও মহাবিপদ। কিডনির অবস্থা গত ৭/৮ দিনে এতোই খারাপ হয়েছে যে, তাঁর হার্টের অবস্থাও নাজুক হয়ে গেছে। তারপর এমন কোন হাসপাতাল নেই যে, তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু পাষান দলের একটি হাসপাতালও তাঁকে গ্রহন করেনি। সরকারি হাসপাতাল ওমসমানীতে কেন করবে না?  সবাই মনে করে তিনি করোনা ভাইরাসের রোগী। কিন্তু তাঁর শরীরে কোন জ্বর নেই। করোনার কোন লক্ষণই নেই।

    তাঁর কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, ইউনাইটেড হাসপাতালের কাগজ দেখার পরও সবাই বলে সব ঠিক আছে কিন্তু আমাদের এখানে কোন স্যার(চিকিৎসক) নেই। অর্থাৎ সার্জেন্ট বা স্পেশালিস্ট নেই। ভর্তি করে কি হবে চিকিৎসা তো দিতে পারব না।

    কেন কেউ ই নেই কেন? কি হয়েছে তাদের? বেশিরভাগই বলেছে স্যাররা ঢাকায় গেছেন তাদের করোনা ভাইরাস আছে কি না পরীক্ষা করাতে। অনেকে আবার বলেছে স্যাররা বলছেন, যতদিন করোনা ভাইরাসের কারফিউ আছে কোন রোগী দেখবেন না।

    সবশেষ আল্লাহর রহমতে রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে অনেক চেষ্টা করে অনুনয় বিনয় করার পর ভর্তি নেয়। কিন্তু তারা ভয়ে ভয়ে কাজ করছিলেন। তাদের এখানেও নাকী ডাক্তার কম, সবাই নাকি ডিউটি করছেন না।

    বিপদে বন্ধুর পরিচয়। বিপদে না পড়লে মানুষ চেনা যায় না। এই বিপদের সময় বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা জানতে হয় সিলেট বিভাগীয় বাউল কল্যাণ পরিষদের সভাপতি প্রিয়জন কামাল উদ্দিন রাসেলকে, সিলেট জেলা জর্জ কোর্টের পিপি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীনকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের ছেলে ডা. শিবলুকে, যিনি রাগীব রাবেয়া হাসপাতালের ডাইরেক্টর। তাদের আন্তরিকতার কারনে আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে এবং তারা সব সময় খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

    শেষ কথা হচ্ছে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষেরা কিভাবে চিকিৎসা পাবেন? তাদের ভাগ্যে কী আছে একমাত্র আল্লাহ ই জানেন?

    লেখক :

    প্রধান সম্পাদক, হাওরবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম।

    সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ লীডস শাখা।


    facebook comments





















    © জেপি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৮ - ২০২১