1. [email protected] : Md. Munna Miah : Md. Munna Miah
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Emad uddin Akash : Emad uddin Akash
  4. [email protected] : Peer Jubaer : Peer Jubaer
  5. [email protected] : Rayhan Ahmed : Rayhan Ahmed
  6. [email protected] : Sayad hussen sobuj : Sayad hussen sobuj
  7. [email protected] : Md. Usman Gani : Md. Usman Gani
  8. [email protected] : Zakaria Ahmed : Zakaria Ahmed
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন


সিলেটের কণ্ঠ ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

রেমিটেন্স যোদ্ধারা আমাদের অহংকার, তাদের সম্মানের চোখে দেখুন

  • প্রকাশিত : মার্চ, ২৯, ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ণ


    জাকারিয়া আহমদ:: দেশের অর্থনীতিরি সব সূচকে যখন খারাপ অবস্থা বিরাজ করছিল তখন একটি সূচকই ভালো, আর তা হচ্ছে প্রবাসী আয়। কিন্তু প্রবাসীদের জীবন মোটেই সুখকর নয় এটাই সত্য। নিজ উদ্যোগে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রবাসে পাড়ি জমানোয় তাদেরকে গুণতে হয় বড় অংকের টাকা। এমনও রেকর্ড আছে অনেকে ভিটে বাড়ি বিক্রি করে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসে। এর মধ্যে আবার দালালদের দৌরাত্মও রয়েছে। অনেক শ্রম আর অর্থ ব্যয় করে জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরিবার পরিজন রেখে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন এই প্রবাসীরাই।

    কোটিরও বেশি বাংলাদেশি পাড়ি জমিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। দিন দিন এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অনেকেই আত্মীয় স্বজনদের দেখা পান না দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। এমন অবস্থায় কেউ কেউ প্রবাসে মৃত্যুর মুখেও ঢলে পড়ছেন। প্রবাসের মাটিতে অনেক বাংলাদেশির মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। এমনও প্রবাসে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশির লাশ পর্যন্ত দেখার সুযোগ পায়নি তাদের পরিবার-পরিজন। এতোটা কষ্টদায়ক জীবন নিয়ে তারা এদেশের অর্থনীতিতে বড় ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

    আমরা নিশ্চয় অবগত  মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের প্রবাসীদের জীবন-যাপন নিয়ে। তাদের উপর সেখানে চলে নির্মম নির্যাতন যদি কাজে একটু ব্যতিক্রম হয়। কিছদিন আগেও সৌদিতে বাংলাদেশি অনেক  নারীর উপর চলা পাশবিক নির্যাতনের চিত্র আমরা দেখেছি। এতো কিছুর পরও আমাদের অর্থনীতির বড় স্বস্তির জায়গাটাই হচ্ছে প্রবাসী আয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে আমাদের অর্থনীতি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর বড় কৃতিত্ব এই প্রবাসীদের। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের দিক থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানও বহু বছর ধরে যথেষ্ট শক্তিশালী।

    এতো বড় ভুমিকা রাখার পরও বিভিন্ন সময় এই প্রবাসীদেরকে অবহেলার চোখে দেখা হয়। বিভিন্ন সময় তাদের সাথে এমন আচরণ করা হয়, যা প্রমাণ করে তারা এদেশের বহিরাগত। অনেক সময় তাদেরকে বিমানবন্দরে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। স্যোশাল মিডিয়ায় তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বাজে মন্তব্যর মতো ঘটনাও ঘটেছে, এমনকি ঘটেও থাকে। ইদানিং প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসে যখন সারা বিশ্ব আতঙ্কিত, মৃত্যুর ভয়ে মানুষ দিশেহারা। এমন হওয়ার কথাও, কারণ পৃথিবীর সব প্রযুক্তিই আজ ব্যর্ত অদৃশ্য এই মরণঘাতী ভাইরাসের কাছে। বর্তমান এ সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে অনেক প্রবাসী অবস্থান করছেন। কেউ কেউ এসেছেন এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে। আবার কেউ কেউ ‍মৃত্যুর ভয়ে পরে ফিরে এসেছেন স্বদেশে। এদের কেউ কেউ বুঝে বা না বুঝেই প্রয়োজনে বাহিরে বেড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেন নি। প্রশাসন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাদের দায়িত্ববোধ থেকে। দেশ ও দশের স্বার্থে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ দায়িত্ব পালন করছে প্রশাসন। কারণ বর্তমান মহামারি করোনাযুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। আর এমন পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকাই আমাদের কর্তব্য।

    সিলেটের এক নারী যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছিলেন গত ৪ মার্চ। তিনি শ্বাস কষ্টের রোগী আগে থেকেই। কয়েকদিন বাড়িতে থাকার পর সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার বাসায় চলে যান। ১০ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। গত ২০ মার্চ শহীদ শামসুদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রেখেছিলেন ডাক্তাররা। ভর্তি হওয়ার পরদিন ২১ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সংক্রমণ বিধি অনুযায়ী সিলেট নগরের মানিকপীরের টিলাস্থ সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পরে জানা যায়, ওই নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। একাত্তর টেলিভিশনের জনপ্রিয় টকশো অনুষ্ঠান ‘একাত্তর জার্নাল’ এর উপস্থাপিকা মিথিলা ফারজানার এক প্রশ্নের উত্তরে মুঠোফোনে এ তথ্য জানান আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

    অথচ ওই নারীর মৃত্যুতে তার স্বজনরা বাড়িতে একটি গরু জবাই করে শিরনী ও কবর খোঁড়ার আয়োজন করেন। পরে এলাকাবাসীর দাবীর মুখে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। ওই বাড়ির লোকজনকে বাড়ি থেকে বাহির হতেও দেওয়া হয়নি। এখন প্রশ্ন হলো তিনি করোনা ভাইরাসের রোগী না হয়েও করোনায় মারা গেছেন বলে কেন গুজব উঠলো? তড়িঘড়ি করে তাঁর লাশ কেন দাফন দেওয়া হলো? সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁর পরিবারকে কেন হয়রানী করা হলো? তিনি কি প্রবাসী হওয়ায় এমন আচরণের শিকার? তিনি তো এদেশের নাগরিক, তাঁর কি এদেশের মানুষের সহযোগীতা পাওয়ার অধিকার নেই? তাঁর পাঠানো রেমিটেন্স কি এদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেনি? অবশ্যই তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাঠানো রেমিটেন্স এদেশের অর্থনীতিতে বড় ভুমিকা রেখেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের আয়ে এদেশের অনেক অসহায় পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাতের যোগান দিয়েছে।

    বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যখন কিছু প্রবাসী দেশে অবস্থান করছেন, তাদেরকে সতর্ক করতে প্রশাসনিক উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে অতি বিনয়ের সাথে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু অভিজাত ব্যবসা প্রতিষ্টান, ব্যাংকিং প্রতিষ্টান গোটা প্রবাসীদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের প্রতিষ্টানে প্রবেশে। এমনকি প্রবাসীদের এক নজর দেখতে যেখানে মানুষের ভীড় জমে যেত, আজ সেখানে কিছু কিছু মানুষের মাঝে প্রবাসীদেরকে অবহেলায় এড়িয়ে চলার প্রবনতা দেখা যাচ্ছে। যা দুঃখ্যজনক ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়ও ওঠে।

    যেসব অভিজাত ব্যবসা প্রতিষ্টান ও ব্যাংকিং আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধাদেরকে তাদের প্রতিষ্টানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেসব প্রতিষ্টানের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের ব্যবসায় কিংবা ব্যাংকিংয়ে আভিজাত্যের ছোঁয়া লেগেছে কাদের অর্থে?  এবং যেসব মানুষ আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের আজ অবহেলার চোখে এড়িয়ে চলেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, যদি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এদেশের অর্থনীতিতে বড় ভুমিকা পালন করে থাকে, তাহলে আমরা সমস্ত জাতি কি প্রবাসীদের কাছে ঋনি নই? আমাদের গ্রাম্য ভাষায় একটা উক্তি আছে “কার হকদা খাও গো বান্দি, ঠাকুর ছিনোনা”। যাদের পাঠানো রেমিটেন্সে এদেশের অর্থনীতির আভিজাত্য বাড়ছে আজ একটু বিপদ পড়তেই তাদের উপকারের কথা আমরা ভুলে গেছি। এটা কি তাদের প্রাপ্য? এই কি আমাদের মানবতা? এই কি আমাদের মনুষত্ব? যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটায় তাদের অবমুল্যায়নের কোন সুযোগ নেই। তারা আমাদের অহংকার। আসুন রেমিটেন্স যোদ্ধাদের স্যালুট জানাই। তাদের দুর্দিনে ভালবাসা আর সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেই।

    লেখক :

    নির্বাহী সম্পাদক,

    হাওরবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম।


    facebook comments





















    © জেপি মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০১৮ - ২০২১