প্রাইভেট পড়িয়ে পেল জিপিএ-৫, প্রশাসনের তালিকায় নেই কৃতিত্ব

মো. জাকারিয়া আহমদ :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ড থেকে মোঃ মাজহারুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও প্রশাসনের তালিকায় নেই তার নাম। এমনকি তাঁর কৃতিত্ব লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গতকাল বুধবার ( ১৭ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবার জগন্নাথপুর উপজেলার ৮টি কলেজ থেকে ১৩৩৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩টি। এছাড়া উপজেলার ৭টি মাদ্রাসা থেকে ২৮৬ জন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলাফলে মাদ্রাসা এগিয়ে থাকলেও কোন জিপিএ-৫ পায়নি বলে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে মাজহারুল ইসলাম এবারের আলিম পরীক্ষায় জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইসহাকপুরে অবস্থিত আলোর দিশারি খ্যাত আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইন্সটিটিউট থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে দাখিল পরীক্ষার মতো এবারও জিপিএ-৫ পায়।

প্রশাসনের প্রকাশিত ফলাফল

 

সূত্র জানায়, মাজহারুল ইসলাম ২০১৭ সালের দাখিল পরীক্ষায়ও জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ পায়। সে ছাড়া এবারও আলিম পরীক্ষায় জগন্নাথপুরের মাদ্রাসাগুলো আর কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

মাজহারুল ইসলাম বলেন, দাখিলের পর এবারও আমি আলিম পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছি। তবে গতকাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে জগন্নাথপুরের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

মাজহারুলের আলিম পরীক্ষার ফলাফল

সে আরও জানায়, ৬ বছর পূর্বে তার বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা অনেক কষ্ট করে ৪ ভাই ও ১ বোনের লেখাপড়াসহ সংসারের যোগান দিচ্ছেন।

সেও লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে মাকে সংসারে সহযোগিতা করছে বলেও জানায়।

এছাড়া তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সবসময় সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানায় মাজহারুল।

ফলাফল গোপন করায় সে কষ্ট পেয়েছে বলেও জানায় মাজহারুল।

এনিয়ে কথা হলে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমি সুপারভাইজার অরূপ রায় বলেন, জগন্নাথপুরের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাৎক্ষনিকভাবে মুঠোফোনের মাধ্যমে ফলাফলের তথ্য আমরা সংগ্রহ করে থাকি। অনিচ্ছাকৃত ভুলে হয়তো জিপিএ-৫ এর তথ্য সঠিক হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম নিজামী বলেন, আমরা মাজহারুলের বিষয় নিয়ে মর্মাহত। সে জিপিএ-৫ পেলেও কেন মিডিয়াতে ভূল তথ্য উপস্থাপন করা হল সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমরা মাজহারুলের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট। তাঁকে আমরা সবসময় সহযোগিতা করে এসেছি এবং ভবিষ্যতে করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇