ছাত্রদের জন্য ছাত্রলীগ হলে, যুবকদের জন্য যুবলীগ নয় কেন : প্রশ্ন নিপুর

অনলাইন ডেস্ক :: আগামী ২৭ জুলাই সিলেট জেলা যুবলীগের ও ২৯ জুলাই মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। সিলেটের দুইটি ইউনিটের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সম্মেলন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তাপ। এমন উত্তাপের মাঝে আছে তারুণ্য নির্ভর রাজনীতির শ্লোগান। আর এ শ্লোগানে তৎপর রয়েছেন সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। যারা এবার শামিল হয়েছেন যুবলীগের কাতারে।

তারুণ্য নির্ভর যুব রাজনীতির শ্লোগান নিয়ে এবার বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা মাঠে নামলেও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুর এক ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে যুবলীগে চলছে নানা আলোচনা।

মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) বিকেলে ফেসবুকে পোস্ট করা হিরণ মাহমুদ নিপুর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

“সিলেট যুবলীগ কে ঘিরে বয়স্ক বড়ভাই দের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দেখে জানতে ইচ্ছে করছে-

ছাত্রদের জন্য ছাত্রলীগ যদি হয়,
যুবকদের জন্য যুবলীগ নয় কেন?

ছাত্রলীগের রাজনীতি করবেন তারাই,
যারা ছাত্র, বয়স সর্বোচ্চ ২৯ এবং অবিবাহিত।
ছাত্রলীগের জন্য নিয়ম কানুন মেনে নিতে বাধ্য ,
যুবলীগের জন্য কি কোন সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র কি নেই ?

সিনিয়র যেসব ভাইদের কোমরে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা বয়সের ভারে সংগঠনে সময় দিতে পারবেন না দয়া করে আপনারা স্বেচ্ছায় তরুণদের সুযোগ দিন। দলের জন্য আপনাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে স্বীকার করি ,তাই বলে আপনার এই বয়সে যুবলীগ করবেন তা – ত লজ্জার।

দীর্ঘ দিন ধরে যুবলীগের নেত্রীত্ব দিয়ে কি করেছেন- না করেছেন তার হিসাব নিকাশ নাইবা কষলাম।

আমরা কেউ-ই রাজনীতির লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি না।

যদিও রাজনীতি জনকল্যাণমূলক হওয়া উচিত ছিল। যুবলীগ বা ছাত্রলীগ আমরা সিলেট শহরের জনকল্যাণমূলক কোন কাজের পদক্ষেপ নেইনি। কখনো দাবি দাবা জানিয়ে কোন মন্ত্রী এমপি কে স্বারকলিপি প্রদান করিনি।

একবার আমি এমসি কলেজে মসজিদ নির্মাণ ও নতুন ভবন সামাদ আজাদের নামে নামকরণের জন্য কলেজের প্রিন্সিপাল বরাবর আবেদন করেছিলাম।
এখন এমসি কলেজে বঙ্গবন্ধুর মোরাল নির্মাণ হচ্ছে কলেজ ছাত্রলীগের দাবিতে।

এছাড়া যুবলীগ ছাত্রলীগের কোন অবদান আছে বলে আমার জানা নেই।
বাংলাদেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে সেই পরিমাণ উন্নয়ন সিলেট হয়নি।
জনকল্যাণে অবদান রাখতে না পারলে শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা কাম্য নয়। সংগঠনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিজের বলয় বৃদ্ধি করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার এইতো সুযোগ। সময় এবং সুযোগ বারবার আসেনা। সুযোগ একবার হাত ছাড়া হলে অনেক পছতাতে হবে।

ভোটের মাধ্যমে যুবলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার সীদ্ধান্ত ভূল হবে এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। ভোটে কখনো যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসেনি।

বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব কে সামনে নিয়ে আসার যে স শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তা অব্যাহত থাকুক। কারণ কেবলমাত্র তরুণরাই পারবে একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তরুণদের মেধা মনন ও শ্রম দেশের সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনাকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।

“বৃদ্ধরা নিপাত যাক,
যুবকরা মুক্তি পাক।”

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇