সর্বশেষ সংবাদ:
মিরপুর ইউপি নির্বাচন : ‘ক্লিন ইমেজ’র মোস্তাকের সঙ্গে পারলেন না ফয়জুর মিরপুর ইউপি নির্বাচন : চমক দেখিয়ে মেম্বার নির্বাচিত ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব মিরপুর ইউপি নির্বাচন : আনারসে ডুবলেন কাদির স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি, আবরারের বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী মিরপুর ইউপি নির্বাচন : ৮ কেন্দ্রে ১৭৭৭ ভোটে এগিয়ে আনারস ৫ কেন্দ্রে আনারস ২৫০৩, নৌকা ১৫১৩ মিরপুর ইউপি নির্বাচন : আটঘরে জিতল আনারস শিশু তুহিন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে কাজী সমিতির সভা অনুষ্ঠিত মিরপুর ইউপি নির্বাচন : গড়গড়িতেও জিতলেন শেরীন মিরপুর ইউপি নির্বাচন : চাঁদবোয়ালীতে আনারসের বিপুল ভোটে জয় দিরাইয়ের শিশু হত্যার নেপথ্যে ‘পারিবারিক বিরোধ’, বাবা-চাচাসহ আটক ৬ শিশু তুহিনের শরীরে বিদ্ধ ছুরিতে দুইজনের নাম আবরারের বাবা, মা ও ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে গিয়েছেন। টাকার জন্য বন্ধুর স্ত্রী ও কন্যাকে খুন, ঘাতক গ্রেফতার প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ছুড়িকাঘাত মিরপুর ইউনিয়ন নির্বাচন : ব্যালট বক্স নিয়ে নৌকা সমর্থকের পালানোর চেষ্টা মীরপুর ইউনিয়ন নির্বাচন বয়কট করলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদির মিরপুর ইউপি নির্বাচন : পুলিশ ও আনসারকে পেটালো নৌকার সমর্থক মা-সন্তানকে হত্যা করে বিকাশের ৮ লাখ টাকা লুট দিরাইয়ে ৫বছরের শিশুকে নৃশংস ভাবে খুন

রাতে গেলেন পুলিশের এসআইয়ের বাড়িতে, ভোরে বাসার দরজার সামনে মিললো লাশ

বিশেষ প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশের আমন্ত্রণে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর গ্রামে দুর্গোৎসব দেখতে গিয়েছিলেন নিউটন দেব লিটন (৪৫) নামের এক কম্পিউটার ব্যবসায়ী। সোমবার রাতে তার আমন্ত্রণে নবীগঞ্জে গেলে মঙ্গলবার সকালে ওই কম্পিউটার ব্যবসায়ীর লাশ তার ভাড়া করা বাসার দরজার সামন থেকে উদ্ধার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লিটন জগন্নাথপুর থানার পাশ্ববর্তী এক মার্কেটে কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি থানায় দায়েরকৃত মামলা (অভিযোগ) লিখতেনও।

একাধিক সূত্র জানায়, নিউটন দেব লিটন শারদীয় দূর্গোৎসবের মহানবমী অনুষ্টান দেখতে জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশের আমন্ত্রণে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর গ্রামে যান। একই অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সোহেল আমিন ও হবিবপুর এলাকার হেলাল আহমদও যান। তারা একই সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে জগন্নাথপুরের ফিরেন। রাত আড়াইটার দিকে লিটনকে জগন্নাথপুর খাদ্য গুদাম সংলগ্ন জনতা রেস্টুরেন্টের সামনে নামিয়ে দিয়ে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে লিটনের মরদেহ বাসার দরজার সামনে দেখতে পান তারই স্ত্রী সঞ্চিতা দেব। তিনি স্বামীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ দেখে চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিউটন দেব লিটনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত নিউটন দেব লিটন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বটছর গ্রামের মৃত নিকুঞ্জ দেবের ছেলে। তিনি জগন্নাথপুর পৌর শহরের সি/এ মার্কেটের একটি আবাসিক ভবনে ভাড়া বাসায় বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।

এ ঘটনায় লিটনের বৃদ্ধা মা আরতি রানী দেব, স্ত্রী সঞ্চিতা দেব ও অবুঝ ৩ শিশুর বুকফাঁটা করুন আহাজারীতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত লোক লিটন দেবের বাসায় ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের শান্তনা জানান।

নিহত লিটনের স্ত্রী সঞ্চিতা রানী দেব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সোমবার সন্ধ্যা রাতে আমার স্বামী দূর্গোৎসব দেখতে নবীগঞ্জ উপজেলায় যান। মঙ্গলবার ভোর বেলা বাসার দরজা খুলেই আমার স্বামীর নিথর দেহ পরে থাকতে দেখি। এসময় শরীরের  বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ দেখে চিৎকার দিলে অন্যান্যরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেন। তবে কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছে আমার জানা নেই।

জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমার আমন্ত্রনে নিউটন দেব লিটন পূজার অনুষ্টান দেখতে গেলেও ওই দিন মধ্য রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার সোহেল আমিনের মোটরসাইকেল যোগে লিটন তার নিজ বাসায় ফিরে যায়।

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার সোহেল আমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশের আমন্ত্রণে আমি ও আমার এলাকার হেলাল আহমদকে নিয়ে নবীগঞ্জ এলাকায় দারোগা অনুজ কুমার দাশের বাড়িতে দূর্গোৎসব দেখতে যাই। রাতে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে একই আমন্ত্রণে যাওয়া নিউটন দেব লিটন আমার মোটরসাইকেল যোগে আসার অনুরোধ করলে লিটনসহ আমরা ৩ জন মোটরসাইকেল দিয়ে জগন্নাথপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। লিটন মোটরসাইকেলে উঠার সময় তার মূখ থেকে মাদকের গন্ধ বের হওয়ায় আমি ধারনা করি লিটন মদপান করেছেন। রাত অনুমান আড়াইটায় পৌর শহরের সি/এ মার্কেট এলাকায় খাদ্য গুদাম সংলগ্ন জনতা রেস্টুরেন্টের সামনে লিটনকে নামিয়ে দিয়ে আমরা দু’জন আমাদের বাড়িতে ফিরে যাই।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিউটন দেব লিটনের মৃত দেহ ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇