পানির কষ্টের গল্প শোনালেন পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে এগিয়ে গেছে। কিন্তু যেসব বিষয়ে এখনও পিছিয়ে তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের ব্যাপারটা হলো পানি। তার সঙ্গে সেনিটেশন বা পয়ঃনিষ্কাশন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে একটি অভিজাত হোটেলে পানিবিষয়ক এক আলোচনা সভায় একথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পানি প্রসঙ্গে কথা বলতে নিজের পানির কষ্টের কথা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, ‘আমার বাড়ি সুনামগঞ্জে, হাওর এলাকায়। ছোটবেলায় আমি ওখানেই বড় হয়েছি। পানির কষ্টে আমি নিজেও ভুগেছি। আমার পরিবার ভুগেছে, আমার ভাই-বোন ভুগেছে। প্রতিবেশীরাও ভুগেছে। নৈমিত্তিক আমরা কলেরায় আক্রান্ত হতাম।

তিনি বলেন, প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাস আসলে চিৎকার শুরু হতো প্রতিবেশীদের মধ্যে। শুনতাম এই বাড়ি কলেরা, ওই বাড়ি কলেরা। লাখ লাখ লোক মারা গেছে, এই দেশে কলেরায়। সেটা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের নানা ধরনের কাজ করতে হয়েছে।

ছুটির দিনগুলোতে প্রায়ই সুনামগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে যান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই আমি বাড়িতে যাই এবং প্রতিবেশী গ্রামগুলোতেও যাই। সবচেয়ে দরিদ্র যারা, তারা সাধারণত কাছে আসতে ভয় পায়। তারা সামনে আসতে চায় না, দূরে দূরে থাকে। কারণ আমার সঙ্গে উচ্চমানের লোকেরা থাকে। তাদের ডাকদিয়ে আমি আনি নিজের আগ্রহে। বিশ্বাস করেন, প্রায় ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে তারা একটি জিনিসই চায়, এই এমপি সাহেব, আপনি একটু পানি দেন আমাদের। খাওয়ার পানি চায়, টিউবওয়েল চায় তারা।’

গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের প্রথম চাওয়া এই পানি বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিজের চাওয়া তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি চেয়েছি, আমাকে গ্রামে কাজ করার সুযোগ দেন। আর গ্রামের মানুষের জন্য আপনি পানি, পয়ঃনিষ্কাশন– এগুলোর জন্য যদি আপনি প্রকল্প দেন তাহলে আমি খুশি হব। উনি আমাকে প্রায় সাদা চেক দিয়ে দিয়েছেন যে, হ্যাঁ, গ্রামের জন্য কাজ করেন, প্রকল্প নিয়ে আসেন।’

নিজের দুই উপজেলার জন্য বিশেষ প্রকল্প তৈরি করেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, ‘হাওর এলাকার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প আমাদের টেবিলে ঘোরাফেরা করছে। সেটাও আশা করি, এই মাসের মধ্যে একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) পাস করব।’

বর্তমান সরকার পানির বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ‘বৈষম্যের বড় দিক হলো পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন । মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বাসস্থানের। এইসব ব্যাপারে আমাদের আরও অধিক কাজ করতে হবে।’

আগে ইউনিসেফ পানি নিয়ে কাজ করলেও এখন তেমন একটা করে না বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘শুনতে ভালো লাগে, আমরা নাকি ইতোমধ্যে ৯৮ শতাংশ মানুষকে সুপেয় পানি দিচ্ছি। এটা প্লাস, মাইনাস হতে পারে। আমাদের কাছে ক্ষমতা আছে, অর্থ আছে – বাকি দুই শতাংশ কাভার করতে পারি। কিন্তু আয়োজন বা ব্যবস্থাপনায় আমাদের কিছু ঘাটতি রয়েছে। আপনারা কাজ করছেন, আপনারা ভালো জানেন।’

সবাই মিলে কাজ করলে ব্যবস্থাপনায় যে দুই শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, তা কাভার করা সম্ভব বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇