আমেরিকান স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে, ফেঁসে যাচ্ছেন বড়লেখার সুমন!

বিশেষ প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলাধীন মোহবন্দ গ্রামের সুমন আহমদ বিগত ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তারিখে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ২৫ লক্ষ টাকা মোহরানা সাব্যস্তক্রমে পারিবারিকভাবে রেজিস্টারী কাবিনমূলে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন আলীনগর গ্রামের ইয়াসমিন বেগমকে বিবাহ করেন।

সুমন বড়লেখার মোহবন্দ গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র। আর ইয়াসমিন বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা।

বিবাহের দিন থেকে ইয়াসমিন বেগমকে মৌলভীবাজার জেলাধীন সুমন আহমদের বাড়িতে নিয়ে যান। বিবাহের সময় সুমন আহমদ সুকৌশলে মিথ্যাভাবে স্বর্ণালংকার বাবদ ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা উসুল দেখিয়েছেন।

বিবাহের মোহরানার অবশিষ্ট ১৭ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫ শত টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য এবং বাকি ৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য। কিন্তু উল্লেখিত সুমন বিয়ের দিন বা তার পরেও তার স্ত্রী ইয়াসমিনকে কোন ধরনের দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করেন নাই। অতঃপর এক বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হওয়ার পর সুমনের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম আমেরিকায় চলে যান। আমেরিকা যাওয়ার পর স্বামী সুমন আহমদ ও সুমনের বাড়ির লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বিদ্যমান রাখেন। একপর্যায়ে ইয়াসমিন বেগম স্বামী এবং স্বামীর পরিবারের কথা চিন্তা করে স্বামীকে নিয়ে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আমেরিকার নিয়ম অনুসারে স্বামীর জন্য ভিসার আবেদন করেন। ইয়াসমিনের আবেদনের ভিত্তিতে স্বামী সুমন আহমেদ স্পাউস ভিসায় ২০১৫ সালের ২৬ মে আমেরিকায় চলে যান। সেখানে ইয়াসমিন ও সুমন একসঙ্গে থাকেন এবং আমেরিকায় বসবাসকালীন সময়ে যাবতীয় ব্যয়ভার ইয়াসমিন বহন করেন। এরপর স্বামী সুমনের গ্রীণকার্ডের জন্য ইয়াসমিন আবেদন করেন। এরই মধ্যে একই বছরের জুনে বাংলাদেশে চলে আসেন সুমন এবং আগস্ট মাসের ২৩ তারিখ আমেরিকায় ব্রেক করেন।

এভাবে কয়েকবার সুমন তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের অজুহাতে দেশে আসেন। দেশে অবস্থানকালীন সময়ে আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী ইয়াসমিন বেগমের কাছ থেকে টাকা আনতেন এবং স্বামীর কথা শুনে ইয়াসমিনও দিতেন। এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই সুমন ইয়াসমিনকে প্রতিনিয়ত নগদ টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিতেন এবং মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এমনি ইয়াসমিন বেগম সন্তান নিতে চাইলে সুমন সন্তান নিতে বাধা দেন। কিন্তু সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ইয়াসমিন বেগম স্বামীর নানান অত্যাচার সহ্য করে ঘর সংসার করতে থাকেন।

অতঃপর চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সুমন আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন। তিনি এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। দেশে অবস্থান কালীন সময়ে প্রতারক সুমন বারবার তার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে এসেছেন।

স্ত্রীর কাছে এভাবে বারবার টাকা চাইলে ইয়াসমিন স্বামী সুমনকে জিজ্ঞেস করেন `এভাবে টাকার কি কাজে লাগতেছে? আমি দেশে আসতেছি এবং এসে দেখবো।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২০ জুলাই ইয়াসমিন বাংলাদেশে চলে আসেন এবং দেশের আসার দু’দিন পর স্বামীর কাছে টাকা পয়সার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বামী উলটো ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করেন বলে অভিযোগ স্ত্রী স্ত্রী ইয়াসমিনের। যৌতুকের টাকা না দিলে স্ত্রী ইয়াসমিনকে তালাক দিবেন বলেও হুমকি দেন সুমন।

পরবর্তীতে স্বামীর এরূপ আচরনের বিষয়ে স্ত্রী ইয়াসমিন মর্মাহত হন এবং তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী সুমন লুকিয়ে আরেকটি বিয়ে করেছেন। স্বামী সুমন ইশানি আফরিন সামু নামের এক মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া চলতি বছরের ১৪ জুন বিয়ে করেন।

এ ঘটনার পর স্ত্রী ইয়াসমিনের আত্বীয়-স্বজন সুমনের আত্বীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোন ধরনের সন্তোষজনক উত্তর আসেনি। বরং সুমনের পরিবার ইয়াসমিন এবং ইয়াসমিনের পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক আদালত সিলেট সদর-এ একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াসমিন বেগম। (মামলা নং ১৪৩/২০১৯ ইং)।

এ ঘটনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আরেকটি মামলা করেন ইয়াসমিন। সি/আর জালালাবাদ (মামলা নং – ১১৪/২০১৯)।

মামলা দুইটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টায় রয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇