কেন্দ্রীয় যুবলীগের উদ্যোগে শেখ কামালের ৭১ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭১ তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৪র্থ তলার অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

সভাটি যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়।

সভা পরিচালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন তোফায়েল আহমদ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৬৯-এ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সরকার ধর্মীয় উগ্রতার পরিচয় দিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করে। শেখ কামাল তখন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীদের সংগঠিত করেন এবং রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি খ্যাতিমান শিল্পী জাহিদুর রহিমকে দিয়ে বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে গাওয়ানোর উদ্যেগ নেন। বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার সন্তান তিনি, জন্ম থেকেইে তার ধমনিতে নেতৃত্বগুণ আর জাতীয়তাবোধের চেতনা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে যখন যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই বিশ্বকবির গান গেয়ে অহিংস প্রতিবাদের অসাধারণ উদাহরন রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর ৭২’এ ‘আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার নামে সংগঠিত করেন ফুটবল দল ‘ইকবাল স্পোর্টিং’ আর ক্রিকেট, হকির দল ‘ইস্পাহানী স্পোর্টিং। পরে এসব দলের সমবায়ে নবোদ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘আবাহনী ক্রীড়া চক্র’। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি এই খেলাগুলোতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল কামালের। ফুটবলের উন্নতীর জন্য ৭৩’এ আবাহনীতে বিদেশী কোচ বিল হার্ট-কে নিযুক্ত করেন। যোগ্যতা, দক্ষতা আর দেশপ্রেমের অসামান্য স্ফুরণে শেখ কামাল অল্প

দিনেই বদলে দিয়েছিলেন সদ্য স্বাধীন একটা দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র। শুধু ক্রীড়াই নয় শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির সব শাখাতেই ছিল তার মুন্সিয়ানা ও অসামান্য সংগঠকের ভূমিকা।

সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, জাতির পিতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে কোন অহমিকাবোধ ছিলনা। তিনি ছিলেন বিনয়ী ও মার্জিত, দাম্ভিকতা ছিলো তার স্বভাববিরুদ্ধ। পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল শেখ কামালের বিন¤্র আচরণে মুগ্ধ হতো সবাই।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, শেখ কামাল হলেন বহুমাত্রিক গুনে গুনান্বিত যুবক। তারুণ্যের দীপ্ত উদাহরন, অনুকরণীয় ব্যাক্তিত্ব। আমরা আমাদের যুব সমাজকে যে ভাবে দেখতে চাই, শেখ কামাল যেন তারই প্রতীক। শেখ কামাল একজন আদর্শ সন্তান। পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান। শেখ কামাল উজ্জ্বল মেধাবী এক শিক্ষার্থী। একজন সংস্কৃতিবান তরুন, শিল্প সংস্কৃতিক ও সাহিত্যের অঙ্গনে যিনি একজন মনোযোগী কর্মী। একজন ক্রীড়ানুরাগী, খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যিনি উদীপ্ত তরুন প্রাণ। একজন দক্ষ সংগঠক, নেতৃত্বের অনবদ্য ব্যক্তিত্ব যার প্রতিটি পদক্ষেপে। সবচেয়ে বড় কথা তিনি একজন সাহসী মানুষ। দেশের জন্য তিনি নিজের প্রান উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত। বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি হলেন আমাদের স্বপ্নের যুবক। আমাদের প্রত্যাশিত, কাঙ্খিত যুব অবয়ব। একারনেই শেখ কামালকে স্মরন করা আমাদের জরুরী। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শেখ কামালের আদর্শ আলোকিত হওয়া আজ সময়ের দাবী। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মনে করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ বাস্তবায়নের জন্য আজ প্রয়োজন শেখ কামালের আদর্শকে ধারণ ও লালন। শেখ কামালের মতো মেধা ও মননশীল তরুনরাই পারবে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বানাতে।

সভাপতির বক্তব্য রাখছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক

আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হারুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য, শহীদ সেরনিয়াবাত, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোঃ ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরণ, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, মোঃ আতাউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, শাহজাহান ভূইয়া মাখন, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক, মহিউদ্দীন আহমেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক, মুহা. বদিউল আলম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন, এবং দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দীন রান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇