সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন : সমঝোতার নজির স্থাপন সুবেদুর রহমান মুন্নার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে গত শনিবার। সম্মেলন শেষে নতুন নেতৃত্ব বাঁচাইয়ের জন্য দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিল অনুষ্টিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমঝোতার জন্য সময় বেধে দেন সকল প্রার্থীদের।তাদের বেধে দেয়া সময়ে সকল নেতাকর্মীদের একত্রিত করতে প্রচেষ্টা চালান নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।তবে সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণাকারী তিনজনের মধ্যে একমাত্র সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর যুবলীগের সাবেক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক এবং আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য সুবেদুর রহমান মুন্না। তিনি ছাড়া সভাপতি পদে লড়াই করতে অটল থাকেন নবনির্বাচিত সভাপতি আলম খান মুক্তি ও যুবলীগ নেতা শান্ত দেব। ফলে সভাপতি পদে কাউন্সিলে গড়ায়।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সুবেদুর রহমান মুন্না বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে এসেছি। অনেকেই আমার বড় ভাই, সহপাঠি ও বন্ধু।তাদের অনুরোধে ও মহানগর যুবলীগকে একত্রিত রাখতে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেই। আমি আমার কাজের মূল্যায়নের দায়িত্ব মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুব জাগরণের অহংকার যুবলীগ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ছেড়ে দিলাম।
সুবেদুর রহমান মুন্নার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, তোর বুকের পাঠা এতো বড়। যা প্রশংসাযোগ্য। তোর ছাড় দেয়ার মানসিকতা যুবলীগের রাজনীতিতে নজির হয়ে থাকবে।তুই অব্যশই মূল্যায়িত হবে।

এসময় কাউন্সিল অধিবেশেনে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাসহ সকল কাউন্সিলরবৃন্দ কারতালির মাধ্যমে তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান বলে কাউন্সিল অধিবেশনে থাকা একাধিক নেতৃবৃন্দ সিলেটের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

এরপর শনিবার দিবাগত রাত বারোটা ১০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাস্টাস দেন সুবেদুর রহমান মুন্না।

তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাস্টাসটি আমাদের পাঠকের জন্য হুবুহুবু তুলে ধরা হলো
‘‘প্রিয় সহযোদ্ধা
সালাম,আদাব ও অভিনন্দন গ্রহণ করুন গত ২৭/০৭/২০১৯ সিলেট মহানগর সম্মেলনে আমি আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা ও সমর্থন নিয়ে সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছিলাম। আপনাদের মহামূল্যবান ভোট, সমর্থন, দোয়া আশীর্বাদ ও সার্বিক সহযোগিতা আপনারা করতেন। সেটা আমি জানি। কিন্তু আমার হাতে সময় ছিল একই বারে কম মাত্র ১ দিন। তার মধ্যেও আমি যে সারা পেয়েছিলাম সত্যি আমি অবিভুত।তবে যুবলীগকে একত্রিত রাখতে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাড়াই। এজন্যই অনেককেই আশাহত হয়েছেন। আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন।আমি মনে করি মহানগর যুবলীগ আমরা একটি পরিবার এখানে নবনির্বাচতি সভাপতি আলম খান মুক্তি ভাইয়ের সঙ্গে গত ৫ বছর কাজ করেছি।এছাড়া নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বন্দু মুশফিক জায়গিরদার’র সঙ্গে ২৬ বছর একই সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করেছি। তাদেরকে আমি ফেলতে পারি নাই। আমি নমিনেশন উড্র করে হারি নাই আমি হেরেছি ভাই, বন্দু, ও বিবেকের কাছে। আমি বিজয়ী আমার নেতা আজাদুর রহমান আজাদ ভাইয়ের সঠিক পরামর্শের কাছে সর্বপোরি আমি বিজয়ী আমাদের যুব রাজনীতির আশ্রয় স্থল যুবজাগরনের অহংকার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক চৌধুরী আমাকে সম্মানিত কাউন্সিলর, আমার অভিভাবকদের সামনে আমাকে যে ভাবে সন্মানিত করেছেন আমি একজন যুবলীগের কর্মী হিসাবে এর চাইতে বেশি কি পাওয়ার আছে। আমি বিগত দিনে আপনাদের সাথে ছিলাম, এখানো আছি, ভবিষ্যতে ও থাকব। ইনশাল্লাহ’’
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্দু

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন 👎👎👎

এ জাতীয় আরও সংবাদ 👇